পাবনা এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদী জংশনে যাত্রাবিরতির দাবি

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঈশ্বরদী ও পাবনা একই জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। ফলে পুরো জেলার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে প্রবেশ ও যাত্রাবিরতি করা যৌক্তিক।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ঢাকা থেকে পাবনা রুটে চলাচল শুরু করতে যাওয়া ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রবেশ ও যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের নেতারা এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঈশ্বরদী ও পাবনা একই জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। ফলে পুরো জেলার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে প্রবেশ ও যাত্রাবিরতি করা যৌক্তিক।

সংগঠনটির দাবি, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগকেন্দ্র। এই স্টেশনে ট্রেনটি প্রবেশ করলে রেল পরিচালনা আরো সহজ ও কার্যকর হবে। একই সাথে লোকোমোটিভ বা কোচে কোনো ধরনের কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে ঈশ্বরদীতে দ্রুত তা সমাধান করা সম্ভব হবে, যা যাত্রীসেবার মান বাড়াতে সহায়ক হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ইঞ্জিন রিভার্সসহ অন্যান্য অপারেশনাল কার্যক্রম ঈশ্বরদী জংশনে নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। এতে ট্রেন পরিচালনায় সময়ও সাশ্রয় হতে পারে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনের সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ সেখানে যাত্রাবিরতি করলে যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে সহজে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে শুধু ঈশ্বরদী উপজেলা নয়, পুরো পাবনা জেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষও উপকৃত হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ঈশ্বরদীতে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, পাকশীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় কার্যালয়, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন। এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের কারণে ঈশ্বরদী দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

তারা বলেন, ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন ট্রেন চালুর উদ্যোগে পাবনা জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে। তবে ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশনে প্রবেশ ও যাত্রাবিরতি করলে এর সুফল আরো বিস্তৃত হবে।

রেল পরিচালনার বাস্তবতা ও যাত্রীসেবার বিষয়টি বিবেচনা করে ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে প্রবেশ এবং যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার সভাপতি মো. রেজাউল আলম ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।