টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ফলে ঢাকামুখী ও চট্টগ্রামমুখী উভয় দিকেই যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন আমতলী এলাকায় ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টিতে সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কিছু চালক উল্টো পথে চলাচলের চেষ্টা করলে চট্টগ্রামমুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কের উভয় দিকেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
মহাসড়কে আটকে পড়া লরির চালক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। এতে একদিকে জ্বালানি অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।’
যানজটে আটকে থাকা বাসযাত্রী ঝর্ণা আক্তার জানান, সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পেরেছেন। তিনি দুই কন্যাকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রামে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে বাসে উঠলেও কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় সড়ক বিভাগের সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। এ কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।


