সিংড়ায় বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন, ছেলে ও নাতি গ্রেফতার

নাটোরের সিংড়ায় নিখোঁজের ১৫ দিন পর মারিয়া বেগম শরিফা (৭৫) নামে বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের সহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ।

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Natore
মাকে হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় গ্রেফতার জনাব আলী ও তার ছেলে আল আমিন
মাকে হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় গ্রেফতার জনাব আলী ও তার ছেলে আল আমিন |নয়া দিগন্ত

নাটোরের সিংড়ায় নিখোঁজের ১৫ দিন পর মারিয়া বেগম শরিফা (৭৫) নামে বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের সহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেছেন তার মেয়ে মর্জিনা বেগম। এ মামলায় নিহতের মেজ ছেলে জনাব আলী (৫৫) ও নাতি আল আমিনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সিংড়া থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক এসব তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর মোহাম্মদ আলী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিহত বৃদ্ধা শরিফা উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামের মরহুম মোজাহার আলির স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে বাড়ির সীমানায় টয়লেটের একটি গর্ত করা নিয়ে নিহত বৃদ্ধার বড় ছেলে শহিদুল ইসলামের সাথে মেজ ছেলে জনাব আলির কথা কাটাকাটি হয়। সেই সময় মা মারিয়া বেগম শরিফা বড় ছেলে শহিদুলের পক্ষ নেন। এতে মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয় মেজ ছেলে জনাব আলি। এ ক্ষোভ থেকে ২৫ মে রাত ৯টার দিকে জনাব আলী তার মাকে গলা টিপে হত্যা করে টয়লেটের সেই গর্তেই মায়ের লাশ ফেলে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেয়।

হত্যার ১০ দিন পর ৪ জুন লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে গভীর রাতে গর্ত থেকে মায়ের লাশ তুলে বস্তাবন্দি করে বাড়ির পাশের একটি কচুরিপানার ডোবায় ফেলে দেয়। লাশ গুমের এ কাজে জনাব আলিকে সহযোগিতা করেন তার ছেলে আল আমিন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাড়ির পাশের ডোবা থেকে ওই বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের চার ছেলে ও স্বজনদের থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে গ্রেফতার দুই আসামি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের কথা স্বীকার করে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত বৃদ্ধা মেজ ছেলে জনাব আলি ও নাতি আল আমিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।