সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত সাত দিনে (৭-১৩ আগস্ট) হাম ও হাম উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১০ জনই শিশু। অপরজন ১৮ বছর বয়সী এক নারী।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
নিহত দুই বছর বয়সী শিশু জেসির বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে। হবিগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৪ জনে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৯৬ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের গত সাত দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৭ আগস্ট মারা যায় দু’জন। পরদিন ৮ আগস্ট কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এরপর ৯ আগস্ট পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই দিন তিনজনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী এক নারী। এরপর ১০ আগস্ট দু’জন, ১১ আগস্ট একজন, ১২ আগস্ট দু’জন ও সর্বশেষ ১৩ আগস্ট আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়।
অর্থাৎ সাত দিনে মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন শিশু হওয়ায় হাম পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৯৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৪ জনে।
এর মধ্যে সিলেটে ২৯৮ জন, হবিগঞ্জে ১৩০ জন, মৌলভীবাজারে ১৩৩ জন ও সুনামগঞ্জে ৩৫৩ জন রয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৯৬ জন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরে হাম ও হাম উপসর্গে সিলেটে ৪৭ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন ও সুনামগঞ্জে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ মৃত্যুর দিক থেকে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।
নিশ্চিত হাম শনাক্তের দিক থেকেও সুনামগঞ্জ এগিয়ে। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ৩৫৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এরপর সিলেটে ২৯৮ জন, মৌলভীবাজারে ১৩৩ জন ও হবিগঞ্জে ১৩০ জন আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর হাম ও হাম উপসর্গে মারা যাওয়া ১৩১ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয়জনের। বাকি ১২৫ জন মারা গেছে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সাত দিনের মৃত্যুর বড় অংশই শিশু। এক সপ্তাহে ১১ জনের মৃত্যু এবং তাদের মধ্যে ১০ জন শিশু হওয়ায় সিলেটে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরো জোরালো হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিন নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে প্রায় ৩০০ রোগীর চিকিৎসাধীন থাকা এবং ধারাবাহিকভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।


