রাজশাহী ব্যুরো
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহীর সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে অধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি সম্পর্কে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এ অর্জন টেকসই করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এর আকাঙ্ক্ষাকে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজে রূপ দিতে হবে।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত। এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাসেম, গবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, আরইউজের সাবেক সভাপতি সরদার আবদুর রহমান, সাবেক সভাপতি ও কথাশিল্পী ডা. নাজিব ওয়াদুদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদারবক্স হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহ্দী।
সভায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আরইউজের সহসভাপতি মঈন উদ্দিন, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক সোহেল মাহবুব ও দৈনিক আমার দেশের রিপোর্টার এম শামীম। সভায় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। গুজব, অপতথ্য ও রাজনৈতিক পক্ষপাত এড়িয়ে জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের সংস্কার কার্যক্রম এবং সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন বা বিরোধী কোনো পক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সাংবাদিকদের স্বাধীন, পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কার, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় পেশাজীবীদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে তাদের দক্ষতা, নৈতিকতা ও অভিজ্ঞতা জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে তাদের অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক চাপ, দুর্নীতি, প্রশাসনিক সংস্কার, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও সামাজিক বিভাজনসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব মোকাবিলায় প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলেন, রাষ্ট্রের ভুল ও অনিয়মের সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক উদ্যোগও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে দায়িত্বশীল সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারেন। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তাদের ঐক্যবদ্ধ, পেশাদার ও নৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।


