ভবন আছে, চিকিৎসক নেই : অচল লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

‘আমার দু’টি বাচ্চা, তাদের বাবা নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয়, হেঁটেই সহজে আসা যায়। তাই বাচ্চারা অসুস্থ হলে এখানে আসি। কিছু ওষুধ ফ্রিতে পাই। অনেক সময় বন্ধ থাকে। তাই ফিরে যেতে হয়।’

মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

Location :

Lohagara
পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকসহ অনুমোদিত পাঁচটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সরকারি এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চিকিৎসাসেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন রোগীরা। এতে ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। তবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কেন্দ্রটি এখন নামেমাত্র চালু রয়েছে। অধিকাংশ সময় ভবনের কক্ষগুলো খোলা থাকলেও রোগী দেখার জন্য কোনো চিকিৎসক থাকেন না। আবার কখনো কখনো পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিই বন্ধ পাওয়া যায়।

পদুয়া ইউনিয়নের তেওয়ারি হাট বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে নয়াপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে একতলা ভবনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থান।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারটি কক্ষই তালাবদ্ধ। চিকিৎসা নিতে এসে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাউকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা। রোগীদের বসার জন্য রাখা চেয়ারগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের দেয়ালের রঙ উঠে গেছে। কোথাও শ্যাওলা জমেছে, আবার কোথাও খসে পড়েছে পলেস্তারা। দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় কক্ষগুলোর ভেতরের অবস্থা দেখা সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা পদুয়া ইউনিয়নের দরগাহ মূড়া এলাকার বাসিন্দা ইসমত আরা বলেন, ‘আমার দু’টি বাচ্চা, তাদের বাবা নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয়, হেঁটেই সহজে আসা যায়। তাই বাচ্চারা অসুস্থ হলে এখানে আসি। কিছু ওষুধ ফ্রিতে পাই। অনেক সময় বন্ধ থাকে। তাই ফিরে যেতে হয়।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) সাব্বির আহমদ বলেন, ‘সরকার ভবন করেছে, কিন্তু চিকিৎসক নেই। একটি ইউনিয়নের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র দীর্ঘদিন জনবলশূন্য থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রতিদিন এখানে ৬০-১০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট পাঁচটি অনুমোদিত পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসকসহ সবগুলো পদই শূন্য। জনবল সঙ্কটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুসেবা, সাধারণ রোগের চিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইফরান বলেন, ‘পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। জনবল নিয়োগ হলে কেন্দ্রটিতে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।