সড়ক নয় যেন মৃত্যুপুরী। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ সিলেটের সব কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত ৫ মাসে সিলেট বিভাগে ১৮৬ সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জনের প্রাণ ঝরে গেছে।
সবশেষ গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলায় কাশীকাপন এলাকায় বেঙ্গল পরিবহনের চাপায় ইউনিক পরিবহনের ৯ যাত্রী নিহত হন। এর আগে গত ৩ মে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নাজিরের বাজারের কাছে ভোরবেলা বাসের চাপায় শ্রমিকবাহী একটি লেগুনার ১২ জন নিহত হন।
তথ্য বলছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ সিলেট অঞ্চলের আওতাধীন মহাসড়কে গত ৫ মাসে ১৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৭৫ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন ১০৯ জন। এদের মধ্যে অনেকেই এখন পঙ্গু জীবনযাপন করছেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মার্চে সবচেয়ে বেশি ৪১টি দুর্ঘটনা ঘটে। ওই মাসে নিহত হন ২৪ জন। মে মাসে ৪০টি দুর্ঘটনায় ২২ জন এবং জুনে ৩২টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ২৯ জন প্রাণ হারান।
হাইওয়ে পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন, মার্চে ৪১টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন, এপ্রিলে ২৩টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন, মে মাসে ৪০টি দুর্ঘটনায় ২২ জন, জুনে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন এবং জুলাইয়ে ৩২টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সাধারণ আহত হয়েছেন ১৬৬ জন।
এছাড়া সবশেষ গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলায় কাশীকাপন এলাকায় বেঙ্গল পরিবহনের চাপায় ইউনিক পরিবহনের ৯ যাত্রী নিহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকের বেপরোয়া গতির পাশাপাশি যত্রতত্র পার্কিং, মহাসড়কের পাশে ভাসমান দোকান এবং হাটবাজারকেন্দ্রিক যানজট দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মৌলভীবাজারের শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, নবীগঞ্জের আউশকান্দি কিবরিয়া চত্বর, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্ট এবং সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি।
হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার। কিন্তু অনেক দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে চলাচল করে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে চালকের পক্ষে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।


