বরিশাল ব্যুরো
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদল। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা শিবির কর্মীদের মারধর করে ক্যাম্পাস ও দু’টি ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেয়। ছাত্রদলের হামলার ফলে কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রশিবির সমর্থিত সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তকণ্ঠ আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদলের দাবি, শিবির ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তারা তা প্রতিরোধ করেছে। ঘটনার পর থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ছাত্রাবাস দু’টির তত্ত্বাবধায়করা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার পর কয়েকশ ছাত্রদল কর্মী ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হল ও মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হলে হামলা চালায়। তারা শিবির কর্মীদের মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়।
এ সময় শিবির কর্মীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ছাত্রদলের সংঘবদ্ধ আক্রমনের মুখে তারা
পিছু হটে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাস ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা আকবর মুবিন বলেন, ‘ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। ছাত্রদল তাদের প্রতিরোধ করেছে। শিবির কর্মীরা আক্রমণাত্মক আচরণ করলে তাদের ছাত্রাবাস ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়া হয়।’
অন্যদিকে ছাত্রশিবির কর্মী আশরাফুল ইসলাম, আরিফুর রহমান ও আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করে এবং ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেয়।
মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হলের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি সত্য। এ নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের সাথে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ফ্লাইট সার্জন ফজলুল হক হলের তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। শিবির কর্মীদের হল ছাড়ার জন্য ছাত্রদল নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সভা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।’
ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, বিএম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


