প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সামরিক শিল্পে সহযোগিতা বাড়াবে তিন দেশ

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, নতুন কাঠামোয় তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানরা থাকবেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
এরদোগান, সালমান এবং শাহবাজ শরীফ
এরদোগান, সালমান এবং শাহবাজ শরীফ |সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়ের জন্য নতুন কাঠামো গড়ে তুলবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতাও আরো গভীর করবে তিন দেশ।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মক্কায় তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যখন ব্যাপক অস্থিরতা চলছে, তখনই এ চুক্তি হলো। ওই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, নতুন কাঠামোয় তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানরা থাকবেন। চুক্তির আওতায় যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং প্রযুক্তি ভাগাভাগির মতো সহযোগিতাও হতে পারে।

এর একদিন আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়্যব এরদোগোন বলেছিলেন, তিনি আশা করেন আরো দেশ এই চুক্তিতে যোগ দেবে। লন্ডনভিত্তিক দৈনিক আশার্ক আল-আওসাতকে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই। উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে একদিন পুরো অঞ্চলের দেশগুলোও এর আওতায় আসতে পারে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শনিবার জানান, পরবর্তী ধাপে মিসর এই চুক্তিতে যোগ দেবে বলে আশা করছে তুরস্ক। তবে কয়েকটি কারিগরি বিষয় এখনো সমাধান করা বাকি।

কুয়েত, বাহরাইন ও সোমালিয়া চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। ইরানও ইতিবাচক সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ার পক্ষে অবস্থানের কথা বলেছে।

শাহবাজ শরিফ বলেছেন, চুক্তিটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো আগ্রাসনের উদ্দেশ্যে নয়।