২৯ লাখ টাকার কাজ দেয়া হয় ৪৫ লাখে

রাবিতে টেন্ডারে অনিয়ম, অভিযোগ তদন্তে ধীরগতি

বর্তমান প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘এটার কাজ চলছে। তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি। কমিটি প্রাথমিক কাজ করেছে। রিপোর্টটি এখনো আমার দেখার সুযোগ হয়নি। আমরা দ্রুতই এ বিষয় নিয়ে বসব। এরপর সিন্ডিকেটে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। তারপর বিষয়টি জানা যাবে।’

Location :

Rajshahi
রাবির হল ব্যবস্থাপনা অটোমেশন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ তৈরির টেন্ডারে অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত চলছে
রাবির হল ব্যবস্থাপনা অটোমেশন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ তৈরির টেন্ডারে অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত চলছে |ছবি সংগৃহিত

ফজলে রাব্বি পরশ, রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হল ব্যবস্থাপনা অটোমেশন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ তৈরির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে ২৯ লাখ টাকার প্রস্তাবের বিপরীতে ৪৫ লাখ টাকার দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দুই দফায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দ্বিতীয় কমিটির প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির জন্য আহ্বান করা দরপত্রে ছয়টি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কারিগরি মূল্যায়ন শেষে আর্থিক প্রস্তাবের জন্য অ্যাডিডিআইই সফট, রাজ আইটি ‍সলিউশন ও সফট বিডি নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করা হয়। তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অ্যাডিডিআইই সফট ৪৫ লাখ টাকা ও সফট বিডি ২৯ লাখ টাকায় কাজটি করার প্রস্তাব দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই তারিখে আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়ার আগে কারিগরি মূল্যায়নে নতুন দুটি শর্ত যুক্ত করা হয়। এর ফলে সর্বনিম্ন দরদাতা সফট বিডি বাদ পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ৪৫ লাখ টাকা দর প্রস্তাব করা অ্যাডিডিআইই সফটকে কাজ দেয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পৃথক কমিটির পরিবর্তে একটি টেকনিক্যাল কমিটি দিয়ে টেন্ডার ওপেনিং, মূল্যায়ন নীতি নির্ধারণ, কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন এবং কাজ বুঝে নেয়ার মতো একাধিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

টেকনিক্যাল কমিটিতে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন ডিন অধ্যাপক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক, সদস্য হিসেবে ছিলেন প্রভোস্ট কাউন্সিলের তৎকালীন সভাপতি ও সিএসই বিভাগের অধ্যাপক আসিফ জামান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব কাওছার, সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী ও আইসিটি সেন্টারের নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার রাহেল মাহফুজ সরকার।

অভিযোগের বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটির তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘এটা নিয়ে দুই বছর ধরে তদন্ত চলছে। দুটি তদন্ত কমিটির সামনে আমরা কথা বলেছি এবং প্রশাসনের কাছে লিখিত জবাবও দিয়েছি, সব অভিযোগ মিথ্যা। কোনো অভিযোগ সত্য নয়।’

তৎকালীন টেন্ডার ইভালুয়েশন কমিটির সভাপতি ও সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম আহমদের সাথে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

অভিযোগের সত্যতা ও তদন্তের অগ্রগতি জানতে দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির সভাপতি ও সাবেক প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমান প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিমের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তার দায়িত্বকালে তদন্তের কিছু কাজ করা হয়েছিল এবং পরবর্তী কার্যক্রম বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছে।

বর্তমান প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘এটার কাজ চলছে। তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি। কমিটি প্রাথমিক কাজ করেছে। রিপোর্টটি এখনো আমার দেখার সুযোগ হয়নি। আমরা দ্রুতই এ বিষয় নিয়ে বসব। এরপর সিন্ডিকেটে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। তারপর বিষয়টি জানা যাবে।’

এদিকে, আইসিটি সেন্টারের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ড. খাদেমুল ইসলাম মোল্যার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সার্বিক বিষয়ে রাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হয়ে যাওয়ার কথা। বিষয়টি নিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। এরপর বিস্তারিত জানাতে পারব।’

উল্লেখ্য, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষের পর, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪১তম সিন্ডিকেট সভায় তৎকালীন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীনকে সভাপতি করে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।