সিলেট বোর্ডে এসএসসির ফল বিপর্যয়, পাশের হার ৫৮.৩৩%

মোট ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন এবং মেয়ে ৩২ হাজার ৬৮ জন। ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মেয়েদের ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড |নয়া দিগন্ত

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্ন পাসের হার হয়েছে। এ বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫। এবার তিন হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৬১৪। অর্থাৎ জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২ জন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াসমিন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, এবার মোট ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন এবং মেয়ে ৩২ হাজার ৬৮ জন। ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মেয়েদের ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

পাঁচ বছরে ধারাবাহিক পতন :
সিলেট বোর্ডের পাঁচ বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে হয় ৭৬ দশমিক ০৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার তা আরও কমে হয়েছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় পাঁচ বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। ২০২২ সালে সাত হাজার ৫৬৫ জন জিপিএ-৫ পেলেও ২০২৩ সালে তা কমে পাঁচ হাজার ৪৫২ এবং ২০২৪ সালে পাঁচ হাজার ৪৭১ জনে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ আরো কমে হয় তিন হাজার ৬১৪ জন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৮৩৬ জনে।

বিজ্ঞান বিভাগে ভালো, মানবিকে তলানিতে :
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে বড় পার্থক্য। এবার বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ বিভাগে ২৫ হাজার ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২০ হাজার ১৫৯ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। ছয় হাজার ২২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে তিন হাজার ৯৮৩ জন।

তবে মানবিক বিভাগে ফলাফল সবচেয়ে খারাপ। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। ৫৭ হাজার ৭৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৫ জন। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

সিলেটে সর্বোচ্চ, সুনামগঞ্জে সর্বনিম্ন :
জেলাভিত্তিক ফলাফলে সিলেট জেলায় পাসের হার সর্বোচ্চ। এ জেলায় ৩৫ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২২ হাজার ১৬০ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ জেলা থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মৌলভীবাজার। ১৯ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ হাজার ১০৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২৫ জন।

হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে আট হাজার ৬৯৫ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন।

সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ। জেলায় ১৮ হাজার ২৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে নয় হাজার ৯৯৯ জন। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৩ জন।

১০০ শতাংশ পাস করা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে :
পাসের হার ব্যাপকভাবে কমলেও শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এবার সিলেট বোর্ডে নয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল সাতটি। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য হয়নি।

জেলাভিত্তিক পাসের হার :
সিলেট ৬২.৮৮%, মৌলভীবাজার ৫৫.৯২%, হবিগঞ্জ ৫৫.৪০%, সুনামগঞ্জ ৫৪.৬৭%।

এবছর পাসের হারে বড় ধসের মধ্যেও জিপিএ-৫ বেড়েছে- আর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো মানবিক বিভাগের ৪৮.১৬ শতাংশ পাসের হার।