কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বুক ও পেট থেকে জোড়া লাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে একই কবরে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে জানাজা শেষে তাদের স্থানীয় কবরস্থানে একই কবরে দাফন করা হয়।
এর আগে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় মারা যায় তিন মাস বয়সী দুই বোন।
নিহত শিশু দু’টির বাবা নাহিদ হাসান জানান, সরকারের উদ্যোগে সোমবার (১০ আগস্ট) তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই শিশু দু’টির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নাহিদ হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছিল। চিকিৎসকরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। আমরা আশা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমার দুই সন্তানকে তুলে নিয়েছেন। আমার ভাগ্যে ছিল না, তাই সন্তান দু’টিকে বাঁচাতে পারলাম না।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শিশু দু’টির চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার কারণে সরকার তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিল। এজন্য তিনি সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জানা গেছে, নিহত শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির সন্তান। ৪ মে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকেই তাদের বুক থেকে পেট পর্যন্ত পরস্পরের সাথে যুক্ত ছিল।
শিশু দু’টির চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে সরকার তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের উদ্যোগে সোমবার শিশু দু’টিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় তাদের মৃত্যু হয়।


