বর্ষা ও অতিবৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননকাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের অব্যয়িত এক কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে রাজশাহীর পবা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত ৩.৩ কিলোমিটার বৈরাগীর খাল পুনঃখনন শেষে ওই অর্থ ফেরত দেয়া হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইবনুল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউএনও ইবনুল আবেদীন বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেয়া হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের। বৃষ্টির কারণে যে কাজ করা সম্ভব হয়নি, সেই কাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩.৩ কিলোমিটার বৈরাগীর খাল পুনঃখননের জন্য দুই কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের কাজ শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে, নির্ধারিত কাজের প্রায় ৩৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়া এবং অতিবৃষ্টিতে খালে পানি বেড়ে যাওয়ায় অবশিষ্ট অংশে খননকাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় সম্পন্ন কাজের বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করার পর এক কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুরো অর্থ কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়।
পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ৩.৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য দুই কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৬ টাকা বরাদ্দ ছিল। অতিবৃষ্টির কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কাজের পরিমাণ অনুযায়ী অব্যয়িত এক কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুমে খালে পানি থাকায় অবশিষ্ট অংশের খননকাজ আপাতত ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রকল্পের বাকি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের পর পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমেই এর সুফল পেতে শুরু করেছেন তারা। খালটি পুরোপুরি পুনঃখনন করা হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।


