ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমাতে কর্মশালা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে অভিভাবক, শিক্ষক ও সুধীজনের সাথে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Bhurungamari
ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমাতে কর্মশালা
ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমাতে কর্মশালা |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে অভিভাবক, শিক্ষক ও সুধীজনের সাথে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের ধামেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ প্রধান অতিথি ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম, তিলাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন, ধামেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম সারোয়ার মির্জা, ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাব সভাপতি আনোয়ারুল হক, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ ও অভিভাবক আলমগীর হোসেন আলম বক্তব্য রাখেন।

অন্যদের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক ও তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলসহ প্রায় দুই শতাধিক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ তার বক্তব্যে বলেন, ‘জেলার চরাঞ্চলের শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সব শিশু ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবে না। শিশুরা যাতে পরিবার ও সমাজের বোঝা না হয়, অভিভাবকদের সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

এজন্য তিনি কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘অর্থ, বিত্ত ও বৈভব শিক্ষার জন্য অন্তরায় নয়। মানুষ একসময় মাটিতে বসে কলাপাতায় লিখে শিক্ষা গ্রহণ করেছে। এখন উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক ও বড় বড় ভবন থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। 'এটা নাই, সেটা নাই'—এসব বলে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করা যাবে না। যা আছে তাই দিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি আরো জানান, কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম সমস্যা হলো মাদক ও বাল্যবিয়ে। মাদকের কারণে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে বাল্যবিয়ের কারণে জেলায় বিপুলসংখ্যক প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে।

এ সময় তিনি মাদক ও বাল্যবিয়ের সাথে সম্পৃক্ত পরিবারকে কোনো প্রকার সরকারি সেবা প্রদান না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। কুড়িগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

পরে জেলা প্রশাসক তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, যৌতুক ও মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক সভায় স্থানীয় জনসাধারণের সাথে মতবিনিময় করেন এবং গাছের চারা রোপণ করেন।