পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিনভর নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা সমালোচনায় মুখর ছিলেন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে উপজেলা শহরের সর্বস্তরের মানুষ। তবে ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী পরীক্ষা দিলেও তালিকায় কোনো নেতাকর্মীর নাম নেই বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সেজান জাকির।
জানা যায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর সুপারভাইজার পদে ৭৬ জন ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৫৩৯ জন আবেদনকারীর আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে "উপজেলা প্রশাসন মির্জাগঞ্জ" ফেসবুক আইডিতে "প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমাণ সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের নামের তালিকা" প্রকাশ করা হয়। তালিকায় ৯ জন সুপারভাইজার ও ৮৪ জন তথ্য সংগ্রহকারীর নাম রয়েছে।
তালিকা প্রকাশের পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়োগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাদ দেয়ার অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিয়োগ বাতিল করে পুনঃনিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানান। উপজেলার ইউনিয়ন সমাজকর্মী মো: জাকারিয়া রানাসহ নিয়োগ কমিটির একাধিক কর্মকর্তা যোগ্যদের বাদ দিয়ে আত্মীয় ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের প্রাধান্য দিয়ে প্রায় ৪০ জন ফ্যাসিস্টকে নিয়োগের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে ছাত্রদলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন।
চূড়ান্ত তালিকায় মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জাহিদুল ইসলাম রাব্বি, ৬ নম্বর মজিদবাড়িয়া ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের সহধর্মিনী নিপা আক্তার, মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগ নেতা মনজুরুল আলম ও হৃদয় হোসেনসহ প্রতিটি ইউনিয়নের তালিকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের নাম রয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো: সেজান জাকির ও ছাত্রদল নেতা মো: কাইয়ুম মৃধা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী মির্জাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্তদের তথ্য সংগ্রহে সুপারভাইজার ও মাঠকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের প্রাধান্য দিয়ে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা ওই নিয়োগ বাতিল করে পুনঃনিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানাই।’
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: শাহাবুদ্দিন নান্নু বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী পদে তথ্য যাচাই-বাছাইকারীদের তালিকা উপজেলা প্রশাসন করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীর নাম তালিকায় থাকলে এটা তাদের দায়-দায়িত্ব।’
নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাথমিক নিয়োগপ্রাপ্তদের কারো বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা গুরুতর অভিযোগ থাকলে নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে জানালে কমিটি অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিয়োগ কমিটির সদস্যবৃন্দ কেউ স্থানীয় বাসিন্দা নন। অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো: রাসেল বলেন, ‘তালিকায় যাদের নাম প্রকাশ হয়েছে তাদের মধ্যে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ কিংবা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কারো নাম থাকলে চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’


