বিস্ফোরণে দগ্ধ, ৯ দিন পর মারা গেলেন বাকেরগঞ্জের হনুফা

৩ আগস্ট ভোরে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

আতাউর রোমান, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল)

Location :

Barishal
বিস্ফোরণে দগ্ধ বৃদ্ধার মৃত্যু
বিস্ফোরণে দগ্ধ বৃদ্ধার মৃত্যু |প্রতীকী ছবি

বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন বরিশালের বাকেরগঞ্জের হনুফা বেগম (৫০) মারা গেছেন। নয় দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হনুফার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুন খন্দকার জানান, তার লাশ বরিশালে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় খরচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। একই ঘটনায় আহত তার মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

এর আগে, গত ৩ আগস্ট ভোরে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিম দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল (শেবাচিম) কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইতি ও ফাহিম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও হনুফা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুন খন্দকার বলেন, আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। পাশাপাশি নিহত হনুফা বেগমের লাশ বরিশালে ফিরিয়ে আনার খরচও প্রশাসন বহন করবে।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, হনুফা বেগমের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অন্য দু’জনের অবস্থার উন্নতি হলেও হনুফা বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই এর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ কী এবং বাড়িতে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।