কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আগুন দিয়ে বাস পোড়ানোর প্রতিবাদে উপজেলা থেকে কুড়িগ্রাম ও ঢাকা রুটের সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরও স্বাভাবিক হয় বাস চলাচল।
ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে ঢাকাগামী যাত্রীদের অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত স্কুটারে করে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সদরে গিয়ে ঢাকার বাস ধরতে হচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলায় সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার বিকেল থেকে কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতি ভূরুঙ্গামারীর সাথে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৮ জুন) রাতে উপজেলার আন্ধারীঝাড় এলাকায় বাসের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা স্বাধীন পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতি ভূরুঙ্গামারীর সাথে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এদিকে বাসে আগুন দেয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে বাস মালিক নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুট ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। ঢাকাগামী যাত্রী আলেফ উদ্দিন, মাহজুবাহ হক ও মাহাদী ইমাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা যাওয়ার জন্য আমরা নাইট কোচের টিকিট কিনেছিলাম। কাউন্টার থেকে জানানো হলো বাস ভূরুঙ্গামারীতে আসবে না, কুড়িগ্রাম গিয়ে উঠতে হবে। এ বৃষ্টির দিনে মালামালসহ ব্যাগ-বস্তা নিয়ে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া কতটা কষ্টের তা ভাবা যায় না। একদিকে যেমন বাড়তি টাকা ও শ্রম যাচ্ছে, অন্যদিকে সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন জানান, বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাসে অগ্নিসংযোগকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে আবারো বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাস পোড়ানোর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে কুড়িগ্রাম মালিক সমিতির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
যোগাযোগ সচল করার বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, ‘উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সম্পাদকের সাথে কথা হয়েছে। বাস চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে বিকেলে একটি আলোচনা সভা হওয়ার কথা রয়েছে, আশা করছি দ্রুতই সমাধান আসবে।’



