চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে বাঁচার জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতাবিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বক্তারা বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রধান করণীয় হচ্ছে সকলের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।’
রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোছাম্মৎ জেবুন্নেছার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রিদুয়ানুল ইসলাম।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা বলেন, ‘সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারো বেড়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রধান করণীয় হচ্ছে সকলের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে উপজেলার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা, সেচ্ছাসেবক ও সামাজিক সংগঠন, এলাকার সচেতন নাগরিক এবং সংবাদকর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জ্বর হওয়ার ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বা তীব্র পেট ব্যথা, অনবরত বমি ও রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। জ্বরের প্রথম দিনেই অবহেলা না করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনএস১ (ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন) ও সিবিসি পরীক্ষা করাতে হবে। এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরনের ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলাগুলোতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বাড়ি, আঙিনা বা ফুলের টবে যেন ৩ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়াও ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এডিস মশার মাধ্যমে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হলে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর মহামারির রূপ নিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রামে ৮ হাজার মানুষ ডেঙ্গু ও ৮ হাজার চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি রোগী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি এডিস মশা ১০ জনকে কামড়াতে পারে। ডেঙ্গুর ১ ও ২ ভ্যারিয়েন্ট শেষ, এখন ৩ ও ৪-এর দিকে যাচ্ছে। এদের প্রভাব খুবই ভয়াবহ। তাই নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখি, জমে থাকা পানি সরাই, এডিস মশা দমন করি, ডেঙ্গুমুক্ত উপজেলা গড়ি।’


