সিলেটে হামের প্রকোপে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৭৪ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০৪ জন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৪ জন। এর মধ্যে সিলেটে ২৫৬, হবিগঞ্জে ৮৫ জন, মৌলভীবাজারে ৮২ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫১ জন শনাক্ত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৭৪ রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩১, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩০, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩০৪ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪১, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৯, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নয়, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুই এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন রয়েছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া দুই শিশুর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী চার মাস বয়সী আবু বকর সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকার এবং এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সাত মাস বয়সী তাইফা হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫২ জন, সিলেটের ৪২ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ১২০ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয়জনের। বাকি ১১৪ জনের হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাম প্রতিরোধে টিকাদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।


