উজিরপুরে ৮-১২ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য

জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লোড ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিএম রবিউল ইসলাম, উজিরপুর (বরিশাল)

Location :

Wazirpur
বিদ্যুৎ সাবস্টেশন
বিদ্যুৎ সাবস্টেশন |নয়া দিগন্ত

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের পর দিন বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার অনিশ্চয়তায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও কৃষক।

অনেক এলাকায় দিনে আট থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। কোথাও আধা ঘণ্টা, কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষা, ব্যবসা ও সেবাখাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শোলক ইউনিয়নের ধামুরা বাজারের ব্যবসায়ী রফিক হাওলাদার বলেন, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ফটোকপি, কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে।

ওয়েল্ডিং ব্যবসায়ী বসার বেপারী বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত দিচ্ছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে লোকসান বাড়ছে।

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। মোবাইল চার্জ ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় অনলাইন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, এত ঘন ঘন লোডশেডিং আগে দেখিনি। বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

এ বিষয়ে উজিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিএম গোপাল চন্দ্র শিব নয়া দিগন্তকে বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লোড ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা নয়া দিগন্তকে বলেন, বিদ্যুৎ সঙ্কটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান তীব্র গরমে দীর্ঘ লোডশেডিং মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, লোডশেডিং কমানো এবং নির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।