কুলিয়ারচরে একটি স্কুলের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সবাই মেয়ে

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, মফস্বলে মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার এই ধারাবাহিক সাফল্য একটি আলোকময় প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

Location :

Kishoreganj
চলতি বছর লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ১৩০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়
চলতি বছর লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ১৩০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় |ছবি : নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে এক অনন্য গৌরব অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টি থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ছয়জন শিক্ষার্থীর সবাই মেয়ে, যার মধ্যে পাঁচজনই অর্জন করেছে কাঙ্ক্ষিত ‘গোল্ডেন জিপিএ-৫’। গ্রামীণ জনপদে নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় এই সাফল্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, চলতি বছর লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ১৩০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৯২ জন এবং পাসের হার ৭০.৭৭ শতাংশ।

বিদ্যালয়টি থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী মেধাবী ছাত্রীরা হলো- নূরে জান্নাত ইভা, নুসরাত আলম জামিয়া, মোছা: সানজিদা ইসলাম, মোছা: তাসমিয়া বাশার ও মোছা: জান্নাত আক্তার। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে মোছা: নাবিলা আক্তার।

বিদ্যালয়ের এমন ফলাফলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক মো: জসিম উদ্দিন (খোকন) বলেন, ‘এ অর্জন শিক্ষক-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদ, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল।’

তবে ছেলেদের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকজন ছেলে শিক্ষার্থীরও ভালো ফলাফলের কথা ছিল। অভিভাবকরা যদি দায়িত্ব নিয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষার (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) আবেদন করেন, তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা যায়।’

ভবিষ্যতে ছেলে-মেয়ে উভয়ই সমানভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, মফস্বলে মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার এই ধারাবাহিক সাফল্য একটি আলোকময় প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুলিয়ারচর উপজেলার ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১,৭৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১,১১৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। উপজেলায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন শিক্ষার্থী।