চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

গ্রামীণ জনপদে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তিন থেকে চার ঘণ্টার আগে বিদ্যুৎ আসার কোনো লক্ষণ থাকে না। এতে তীব্র গরমে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। সময়মতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ফসলের সেচ কার্যক্রম। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে কৃষকদের।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড |নয়া দিগন্ত

অসহনীয় ভ্যাপসা গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং। শহর এলাকাগুলোতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র করুণ। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলোতে দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে একদিকে যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পখাত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার শহর এবং উপজেলা সদরে দিনে তিন থেকে চার বার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, তবে তা প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আবার স্বাভাবিক হয়। কিন্তু গ্রামীণ জনপদে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তিন থেকে চার ঘণ্টার আগে আসার কোনো লক্ষণ থাকে না। এতে তীব্র গরমে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।

কৃষিপ্রধান এই জেলায় বর্তমানে মাঠে মাঠে সেচ পাম্প চালু রাখার ব্যস্ত সময়। সময়মতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ফসলের সেচ কার্যক্রম।

পৌর এলাকার কৃষক শাহাবুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, পাম্প চালুর পরই বিদ্যুৎ চলে যায় ও কখন আসবে তা অনিশ্চিত থাকে। ফসল বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ সঙ্কটে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা রাতে গাড়ি চার্জ দিতে না পেরে দিনে রাস্তায় নামতে পারছেন না। পাশাপাশি চালের মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, পোল্ট্রি ফার্ম ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসায় ক্ষতির ধস নেমেছে। বাতাস চলাচলের অভাবে বেশ কিছু পোল্ট্রি খামারে মুরগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকেই চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা মিলিয়ে ওজোপাডিকোর প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের জন্য ২৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে মেলে মাত্র ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট।

চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘চাহিদার এই ঘাটতির কারণে নিরুপায় হয়েই লোডশেডিং পরিচালনা করতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৮৪ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট।

ডিজিএম মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, চাহিদার প্রায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে পাওয়া বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ ওজোপাডিকো ও ৭০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বন্টন করা হলেও দুই সংস্থায় চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে পারছে না।

এদিকে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যুৎ সেবার বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে বিশেষ করে জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সেবা চালু রাখার প্রতি জোর নির্দেশ দেয়া হয়।

সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা ও হাসপাতালসহ জরুরি প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।