নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে যাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়, তাদের তালিকা চেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে এ তালিকা চান।
এমপির ভাষ্য, ‘গোপালি’ (গোপালগঞ্জের বাসিন্দা) দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ভরে গেছে।
আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি বলেন, "একটা কথা বলতে গেলে এসপি সাহেবের ওপর পড়ে, তবুও আমি বলি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও বলব এই কথাটা, আজ আমি যাইতেছি ঢাকা। ৫ আগস্টের আগে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা গোপালি দিয়ে ভরে গিয়েছিল প্রশাসন।"
"এখনো আবার ঘুরেফিরে সেই গোপালি দিয়া ভইরা গেছে। পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা গোপালি দিয়া ভইরা গেছে। আইনশৃঙ্খলা কেমনে সুন্দর হবে? গোপালিরা কি আমাদের ভালো চাইবে? ভালো চাইবে না," যোগ করেন তিনি।
ডিসি-এসপির কাছে তালিকা চেয়ে সংসদ সদস্য বলেন, "এটার লিস্ট চাই আমরা। কার বাড়ি কোন দেশে, এই নারায়ণগঞ্জে কোন থানার মধ্যে কে আছে, এটার লিস্ট চাই। তালিকা চাই আমরা। ঘুরেফিরে আবার ওই গোপালি দিয়ে ভরে গেছে পুরো নারায়ণগঞ্জ।"
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি নদীপথে চাঁদাবাজির জন্য বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, "মেঘনা বা বিভিন্ন নদী থেকে বালুর বাল্কহেডগুলো ঢোকার আগেই চাঁদা শুরু হয়ে যায়। আবার নাকি মোবাইলে চাঁদা দিয়ে দেয়, কীভাবে দেয় জানি না। এটার সাথে বিআইডব্লিউটিএর অফিসাররাও জড়িত।"
নিজের নির্বাচনী এলাকা সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের জন্য তিতাস গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে এই সংসদ সদস্য বলেন, "সোনারগাঁয়ে ৬৫ হাজার গ্যাস লাইন অবৈধ। আওয়ামী লীগের আমলে এইসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে দেওয়া হইছে। অবৈধ গ্যাস লাইনের জন্য যদি মামলা দেওয়া হয় তাইলে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের এক নম্বর আসামি করবেন, তাইলে দেখবেন সব কমে গেছে।"
"আমি কিন্তু আমার থানায় অর্ডার দিয়েছি, যারা তিতাস গ্যাসের অফিসার যাবে তাদের আগে পিটানোর জন্য। তারা অবৈধ সব কাজ করে," বলেন এমপি।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহের কারণে মূল স্থানে গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জের কারণে বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
গ্যাস সঙ্কট প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, ‘অনেকগুলো সেক্টর আছে, যেখানে অবৈধভাবে সাপ্লাই দেয়ার কারণে মূল স্থানে সাপ্লাই পাচ্ছি না।’
বিদ্যুৎ সঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে কতগুলো। এটি একটি পয়েন্ট নিয়ে দেখেন, লোডশেডিংয়ে এটা কত বড় গুরুত্ব রাখছে। অজস্র ব্যাটারি এই বিদ্যুৎ নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। এটার কোনো রিটার্ন নেই সরকারের। এইভাবে যদি বিদ্যুৎ নষ্ট হয়, তাহলে কী করব?’
নগরীর যানজট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘শহরে যানজটের যে অবস্থা, আমাদের অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং নগর পরিকল্পনা এমনভাবে করা উচিত, বিভিন্ন উন্নত দেশের মতো।’
আবুল কালাম বলেন, ‘সিটিং, মিটিং ও ইটিং—এই তিনটি শব্দে আমরা অনেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এতে কোনো সুফল আসবে না, যদি আমরা আন্তরিকতা না দেখাই। এবং আমরা দায়িত্ববোধের জায়গায় না পৌঁছাতে পারি, তাহলে যে নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই সেটি হবে না।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আমি ওনাদেরকে ইনস্ট্রাকশন করব যে, সমাজকে অস্থিতিশীল করার জন্য রাজনৈতিকভাবে একটা মহল চক্রান্ত করছে। আপনারা যদি এই মুহূর্ত থেকে নিজেদেরকে বলীয়ান করে না তোলেন, একসময় আপনারা কিন্তু বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, জেলা সিভিল সার্জন আবুল ফজল মোহাম্মদ মশিউর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামী মহানগরীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


