সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন সিলেটের নারী উদ্যোক্তারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তারা নগর ভবনে এসে সিসিক প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে নারী উদ্যোক্তারা জানান, সিলেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক ছাদের নিচে নিয়মিত মেলা আয়োজনের মতো সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী জায়গার সঙ্কট রয়েছে। বড় পরিসরে পণ্য প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক মূলধনের ক্ষেত্রেও তারা সমস্যার মুখোমুখি হন। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন ঋণ পেতে নারীদের এখনো নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।
সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি আলেয়া ফেরদৌসী তুলি নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার প্রসারে ঋণপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা করতে সিসিক প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা চাই দেশের এই বিপুলসংখ্যক নারীকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে ইতিবাচক। তাই নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশন ও বিসিকের মাধ্যমে যাতে নারী উদ্যোক্তারা সহজে জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।’
সিলেটের নারী উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটে অনেক নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাদের হয়তো নিজস্ব নিবন্ধিত প্ল্যাটফর্ম নেই। কিন্তু তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। একই সাথে তারা পরিবার ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।’
তিনি বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করব। নারীরা যাতে ব্যবসার পরিধি আরো বাড়াতে পারেন, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে।’
সিসিক প্রশাসক আরো বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করা গেলে তারা আরো উৎসাহিত হবেন। এতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগও বাড়বে।


