নেত্রকোনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগ

ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কেরোসিন ঢেলে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে।

ফজলুল হক রোমান, নেত্রকোনা
নেত্রকোনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগ
নেত্রকোনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগ |নয়া দিগন্ত

ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কেরোসিন ঢেলে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। এতে জুলাই যোদ্ধা ও সাধারনের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই) ভোররাতে নেত্রকোনা শহরের প্রাণকেন্দ্রের প্রবেশ মুখে মোক্তার পাড়া ব্রিজের সম্মূখে তিন সড়কের সংযোগ স্থলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, রাতের আঁধারে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে কতিপয় যুবক উল্লাসে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে ও জয় বন্ধবন্ধু জয়বাংলা’ স্লোগান দেয়ার দৃশ্য দেখা যায়। শহরের ব্যস্ততম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই স্থানটিতে দিনরাত সারাক্ষণ চলাচল লেগেই থাকে। এর পাশেই রয়েছে, ট্রাফিক পুলিশের বিশ্রামাাগার, সার্কিট হাউস, জেলা পুলিশ অফিস, ডিসি অফিস ও আদালত পাড়া। এর পরেও কিভাবে সম্ভব হল এই ধরনের নাশকতামূলক কাজের। তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই নাশকতার সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই যোদ্ধা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা কমিটির সদস্যসচিব মো: সোহাগ মিয়া প্রীতম চরম ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত একটি দলের নেতাকর্মীরা নানানভাবে আমাকে হয়রানী ও সামাজিকভাবে হেনাস্থা চালিয়ে যাচ্ছেন। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা তারই তারাবাহিকতার অংশ।’

তিনি এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ওই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আল-মামুন সরকার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সম্ভবত ফজরের আজানের আগে দুর্বৃত্তরা জুলাই স্মৃতিস্তম্বে কোরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’