সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বান্দরবানে ভাষা শিক্ষার উদ্যোগ সেনাবাহিনীর

‘পার্বত্য অঞ্চলের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের ভাষা শিক্ষা কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব সত্তা টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হবে।’

মিনারুল হক, বান্দরবান

Location :

Bandarban
মাতৃভাষা শিক্ষা কোর্সে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম
মাতৃভাষা শিক্ষা কোর্সে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বান্দরবানে ভাষা শিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিনটি ভাষা শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে মারমা, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরে অন্য ভাষাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কোর্সের উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী বান্দরবানের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ, বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক নুক্রাসিং মার্মাসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের ভাষা শিক্ষা কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব সত্তা টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হবে।’

আয়োজকরা জানান, সেনাবাহিনী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় প্রথম পর্যায়ে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা— এই তিনটি ভাষায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি বছর তিনটি কোর্সে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী (প্রতিটি ভাষায় ৩০ জন) প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। পর্যায়ক্রমে অন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষাকেও এই কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন।