রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে।
এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। সোমবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত সাত বছরের তুলনামূলক ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এক লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় এক লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। অনুপস্থিত ছিল দুই হাজার ৯০৮ জন। অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার জন।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৯০ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল। এ হিসেবে গত সাত বছরের মধ্যে এবারই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির পাসের হার সবচেয়ে কম।
ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে ছাত্রীরা :
এবারের ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো করেছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বিপরীতে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে। এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৬ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে আট হাজার ৯৯১ জন ছাত্রী এবং ৭ হাজার ১২২ জন ছাত্র।
শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে :
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও এবার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মাত্র ৩৫টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। অথচ গত বছর ৯৯টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।
এর আগে ২০২৪ সালে ২৮৯টি, ২০২৩ সালে ১৭৮টি, ২০২২ সালে ১৪৭টি, ২০২১ সালে ৩৬৮টি এবং ২০২০ সালে ৩০৮টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল। ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তবে ফলাফলের এই বড় পতনকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে দেখতে নারাজ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী।
তার দাবি, এবারের ফলাফলকে খারাপ বলা যাবে না; বরং এটিই মানসম্মত বা ‘স্ট্যান্ডার্ড রেজাল্ট’।
তিনি বলেন, ‘সবাই তো ঠিকমতো পড়াশোনা করে না। পড়ে পাস করলে এরকমই ফলাফল হওয়ার কথা।’
এবারের ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান। তার মতে, বর্তমান সরকার সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান বা ‘কোয়ালিটি’র ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।


