‘আমি পৌর বিএনপির সেক্রেটারি হইতে গিয়ে ৫০ লাখ টাকা খরচ করছি’ এমন ফোনালাপের একটি অংশ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
‘আমি পানিওয়ালা যামু না, তোরা একজনও পৌরসভায় আসবি না’—এভাবেই লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়াকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশের বিরুদ্ধে।
একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোবাইল ফোনে এ হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফোনালাপের একটি অংশে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন পলাশকে বলতে শোনা যায়, ‘মনোয়ার প্রধান অতিথি, আমনে বিশেষ অতিথির ব্যানার কইরছেন। আঁই হানিয়ালা (পানিওয়ালা) স্কুলে যাই আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারি প্রধান অতিথি ওইতে হারিনো, আমনে কন পলাশ কে? আমনে কি সাংগঠনিক রাজনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিবেন, আমনে মারুফ ভূঁইয়া? আমনে বলে কইছেন, পলাইশশা কে? আমনে যদি সাংগঠনিক রাজনীতি না চর্চা করেন, আমনে ইউনিয়ন বিএনপি কিভাবে করবেন? আমার নাম কেন আসে নাই ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে? আমনে কইছেন পলাইশশা কে? আমি পানিওয়ালা যামু না, এটা আমি বলছি। তোরা একজনও আসবি না পৌরসভায়। আঁই প্রধান অতিথি কেন হইতে পারিনো? এই মারুফ ভূঁইয়া, সাংগঠনিক রাজনীতি যদি না বুঝেন, তাহলে করিয়েন না।’
অডিও রেকর্ডিংয়ে আরো বলতে শোনা যায়, ‘আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারি, আমার নাম ব্যানারে আসে নাই, আমনে কন পলাইশশা কে? নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টিয়া (টাকা) খরচ করে হালাইছি। আমনে বলেন পলাইশশা কে? আপনি পানিওয়ালাতে আসেন, সেখানে কথা হবে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনাটি পুরনো। পরে আমি জানানোর পর সিনিয়র নেতারা বসে সমাধান করে দিয়েছেন। পলাশ আমাকে সরি বলেছেন।’
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশ জানান, ‘ভাই আজীবন মনে থাকবে, আমাকে রক্ষা করো। আজীবন মনে থাকবে। সাংবাদিক সবাইকে বলো, প্লিজ ভাই।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গোপন ব্যালটে রামগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শেখ মো: কামরুজ্জামান সভাপতি ও গিয়াস উদ্দিন পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই নির্বাচনে মোজাম্মেল হক মজু সভাপতি ও মনোয়ার হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীরা কোটি টাকার বিনিময়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।


