সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতা
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সাতবেকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী সঙ্কটে অস্তিত্ব নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন তিনজন, আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৩৯ জন। এর মধ্যে প্রথম শিফটে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি মিলিয়ে মাত্র আটজন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থেকে পাঠদান করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে রোববার (৯ আগস্ট) দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের কোলাহলের পরিবর্তে বিরাজ করছে অনেকটাই নীরব পরিবেশ। যে মাঠে একসময় অনেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকার কথা, সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়ে।
বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ৭ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৭ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৯ জন। তবে প্রথম শিফটে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি মিলিয়ে উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র ৮ জনকে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ আশানুরূপ না হওয়ায় সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো করা এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ানোর বিষয়ে শিক্ষকদের কার্যকর উদ্যোগও তেমন চোখে পড়ে না।
তবে অভিভাবকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: মোমিনুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের কাজে ব্যস্ততার মধ্যে আছি। আমি এই মুহূর্তে কোনো কিছু বলতে পারব না।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষ্ণা তরফদার বলেন, ‘সাব-ক্লাস্টার অফিসারের মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া না হলে ঐতিহ্যবাহী এ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একসময় শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


