‘কমিটি না মেধা, মেধা মেধা; কোটা গেছে যে পথে, কমিটি যাবে সে পথে’ স্লোগানে উত্তাল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এনটিআরসিএ-তেই শিক্ষক নিয়োগ সনদ এবং নিয়োগের সুপারিশ রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টায় ক্যাম্পাসের মিডিয়া চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। এ সময় ‘কোটা গেছে যে পথে, কমিটি যাবে সে পথে’, ‘কোটা না কমিটি, কমিটি কমিটি’, ‘কমিটির বিরুদ্ধে বেরোবি বেরোবি’, ‘কোটার বিরুদ্ধে বেরোবি বেরোবি’, ‘নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য চলবে না, চলবে না’, ‘কমিটির নামে বাণিজ্য চলবে না, চলবে না’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
পরে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ২৪-এর জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক বাংলা বিভাগের শামসুর রহমান সুমন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নয়ন মিয়া, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আহসান হাবীব, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিদ্দিকুর রহমান, বাংলা বিভাগের মকসুদুল মোমিন, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের আব্দুল কাদের প্রমুখ।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সিদ্ধান্তে এনটিআরসিএ-এর কাছ থেকে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ কেড়ে নেওয়ার একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক কমিটির কাছে শিক্ষক নিয়োগকে বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। তারা বলেন, শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে এই সরকারকে। কোটা ইস্যুতে হাসিনা পালিয়েছে। কমিটি ইস্যুতে বর্তমান সরকারপ্রধানেরও পালানোর পথ তৈরি হবে।
সমাবেশে শিক্ষার্থী ও সমন্বয়ক নয়ন জানান, বর্তমান সরকারও শিক্ষার্থীদের সাথে বেইমানি করল। কারণ এই সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে শিক্ষা নিল না। বিগত সরকারকে শিক্ষার্থীদের সাথে পাঙ্গা নিতে গিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এই সরকার যদি সেরকম আবারও শুরু করে, তাহলে এই সরকারকে কিন্তু লন্ডনে পালিয়ে যেতে হবে। এটা সরকার যেন মাথায় রাখে।
নয়ন বলেন, “এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে যে নিয়োগ হতো, বর্তমান সরকার সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে তা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক কমিটির হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে। যা শিক্ষার্থী সমাজের জন্য অত্যন্ত ভয়ানক একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে এবং শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছভাবে নিয়োগ পাবে না। আমরা চাই শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ কমিটি করবে—এই সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন জারির আগেই বাতিল করে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই দাবি মানা না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”


