লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

চলতি আমন মৌসুমে রোপণ করা ধানের জন্য সময়মতো পর্যাপ্ত চাহিদামতো সার না পাওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন লালমনিরহাটের আমন চাষি কয়েক হাজার কৃষক।

সাব্বির আহমেদ লাভলু, লালমনিরহাট

Location :

Lalmonirhat
লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ
লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ |নয়া দিগন্ত

চলতি আমন মৌসুমে রোপণ করা ধানের জন্য সময়মতো পর্যাপ্ত চাহিদামতো সার না পাওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন লালমনিরহাটের আমন চাষি কয়েক হাজার কৃষক।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জেলার উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় কয়েক হাজার কৃষক সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

কৃষকদের অবরোধের কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পাথরবাহী ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম এবং কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

কৃষকেরা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তা ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিএপি সারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা দর থাকলেও তা ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষকেরা অভিযোগ করলেন।

কাশীরাম এলাকার আইয়ুব আলী জানান, আমন মৌসুমে সারের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কৃষকেরা আরও সঙ্কটে পড়বেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার ডিলারদের কাছে পাওয়া না গেলেও অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী দুই দিনের মধ্যে সার বিতরণের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক, মো: সাইফুল আরেফিন বলেন, চলতি মৌসুমে সারের কোনো সঙ্কট নেই। চাহিদামতো ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কী কারণে কালীগঞ্জের ওই এলাকায় সার সঙ্কট হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বারবার এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।