মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে অনিয়ম ও চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয় খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান। এ সময় তার সাথে থাকা নেতাকর্মীদের সাথে বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের নতুন ভবনের প্যাথলজি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান। প্রথমে তিনি চিকিৎসক বেলাল হোসেনের চেম্বারে যান। সেখানে জানতে পারেন, চিকিৎসক হাজিরা দেয়ার পর চুয়াডাঙ্গায় চলে গেছেন। এ ছাড়া আরো কয়েকজন চিকিৎসককে হাসপাতালে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও ছুটিতে থাকায় তার সাথে দেখা করতে পারেননি এমপি।
পরে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত আউটসোর্সিং জনবলের পরিচয়পত্র ও নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য জানতে চান তিনি। প্যাথলজি বিভাগে গিয়ে কয়েকজন বহিরাগতকে কাজ করতে দেখেন। এ সময় দুজন রোগী এমপির কাছে অভিযোগ করেন, হাসপাতালে পরীক্ষা না করে তাদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে বলা হচ্ছে।
এরপর প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে পরিচয় দেয়া রাকিবুল ইসলামের পরিচয়পত্র দেখতে চান এমপি। তবে তিনি বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। রাকিবুল জানান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।
এ সময় তাকে ল্যাব থেকে বের হয়ে যেতে বলা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রাকিবুল ইসলামের সাথে এমপির সাথে থাকা নেতাকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে এমপির সাথে থাকা এক ব্যক্তি তকে চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে এমপি পাশের ওজোপাডিকোর কার্যালয়ে গেলে তার হাসপাতালে পরিদর্শনের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। পরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের গেটে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংসদ সদস্যকে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন, হাসপাতালটি বিএনপির একটি পক্ষের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। তার দাবি, এমপি পরিদর্শনে গিয়ে অতিরিক্ত আউটসোর্সিং কর্মী দেখতে পান এবং তাদের নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের এক কর্মী খারাপ আচরণ করেন। এর প্রতিবাদ করায় পরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে এমপির সাথে থাকা লোকজনের ওপর হামলা ও তাদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম বলেন, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত লোকজনের সাথে এমপি ও তার সাথে থাকা ব্যক্তিরা খারাপ আচরণ করায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার অভিযোগ, দলবল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে এমপি চিকিৎসার পরিবেশ নষ্ট করেছেন।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংসদ সদস্যকে নিরাপদে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।


