সিলেটে নিহত প্রিতমের বোনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিল মহানগর জামায়াত

সিলেট জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াত দল মত নির্বিশেষে আর্ত মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াত প্রিতমের পরিবারের পাশে থাকবে।’

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
নিহত প্রিতমের বাসায় সিলেট জামায়াত আমির
নিহত প্রিতমের বাসায় সিলেট জামায়াত আমির |নয়া দিগন্ত

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত প্রিতমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এ সময় প্রিতমের বোনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেন তারা।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নগরীর যতরপুর মৌবন এলাকায় নিহত প্রিতমের বাসায় যান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ নগর জামায়াত নেতারা।

এসময় নেতারা প্রিতমের বাবার কাছে নগদ আর্থিক অনুদান তুলে দেন ও শোকাহত পরিবারকে সহমর্মিতা জানান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রীতমই ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। তার আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত পুরো সংসার। অনেক কষ্ট আর অভাবের মধ্য দিয়েই দিন পার করছিল পরিবারটি। ছোটবেলায় পানিতে ডুবে মারা যান প্রীতমের একমাত্র ভাই। এরপর থেকে সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন প্রীতম। দুর্ঘটনায় সেই প্রীতমও চলে গেল। পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার।

এ সময় সিলেট মহানগর জামায়াত আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রিতমের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, ‘মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে কিশোরী মোহন স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী প্রিতমের একমাত্র বোনের লেখাপড়ার সকল খরচ বহন করা হবে। জামায়াত দল মত নির্বিশেষে আর্ত মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াত প্রিতমের পরিবারের পাশে থাকবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর জামায়াত আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কোতোয়ালী পূর্ব থানা আমির রফিকুল ইসলাম মজুমদার, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, সেক্রেটারি আব্দুর রশিদ। এছাড়া স্থানীয় এলাকাবাসীও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচ ও ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে এক শিশু এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে দাঁড়ায়। বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন আহত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।