অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রকল্পের দুইটি খাল খনন শেষে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী সরকারি কোষাগারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা জমা দিয়েছেন।
তার এমন সাহসী উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার তাকে ডেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ভূয়সী প্রশংসা এবং ভালো কাজের উৎসাহ দিয়েছেন। একই সাথে উপজেলার উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমন সাহসী কাজের প্রশংসায় ভাসছেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী।
ফখরুদ্দিন তহসিন মৃধা ও মো. রাশিমুল হক রিমন বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক নেতা ও আমলারা মিলে কাজ না করে সমুদয় টাকা খেয়ে ফেলতো। আর এ সরকারের আমলে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত দিয়েছেন।
এমন দৃশ্য আমতলীতে এটাই প্রথম। কোনো ইউএনও কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত দিয়েছেন—এমন কথা শুনিনি ও নজির দেখিনি। প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা এমন হলে দেশ এগিয়ে যেতে বেশি দিন লাগবে না।
জানা গেছে, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমতলী উপজেলায় দুইটি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত ৮ এপ্রিল কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের ৩ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের ২ কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়। ৩৯৭ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী এ খনন কাজ করেছেন।
খাল খনন কাজের দেখভাল করেছেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। সুন্দর ও সুচারুভাবে খাল খননের কাজ শেষ করেছেন তিনি। খাল খনন শেষে ইউএনও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেছেন। খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ শেষে ইউএনও সরকারি কোষাগারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা ফেরত দিয়েছেন।
ইউএনওদের এমন সৎ, সাহসী ও মহতী উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার সারা বাংলাদেশ থেকে ৮৪ জন ইউএনওকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ডেকে নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের মুখে খাল খননের সুফল ও সৌন্দর্যবর্ধনের কথা এবং উপজেলার উন্নয়নের বিভিন্ন পরামর্শের কথা শুনেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের দিকনির্দেশনা দেন।
কেওয়াবুনিয়া খাল পাড়ের বাসিন্দা উপকারভোগী এইচএম কাওসার মাদবর ও রুবেল হাওলাদার বলেন, এ খাল খননে অন্তত ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হচ্ছে। আগে শুকনো মৌসুমে কৃষকরা পানির অভাবে রবিশস্য চাষাবাদে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতো, এখন আর সেই সমস্যা রইল না। এ খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা প্রতিবছর শত কোটি টাকার ফসল ফলাতে সক্ষম হবে।
তারা আরো বলেন, খাল খননে যেমন পানির সমস্যা সমাধান হয়েছে, তেমনি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করায় এলাকার সৌন্দর্য বর্ধিত হয়েছে। এমন উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভূয়সী প্রশংসা করেন তাঁরা।
আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিকনির্দেশনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ মোতাবেক খাল খনন কাজ শেষ করেছি। এতে খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে বেশ টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘খাল খনন প্রধানমন্ত্রীর একটি মহতী উদ্যোগ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেছি। সৌন্দর্যবর্ধনে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী আমতলী উপজেলার দুইটি খাল খননে এক কোটি ২৮ লাখ ৮৩৭ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। নির্দেশনা মোতাবেক খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ শেষে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। এমন কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকেসহ ৮৪ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ডেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ভালো কাজের উৎসাহ ও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং উপজেলার উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’


