ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পান ও কলা চাষিরা

দেশের পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পান বাজার মূলত এ অঞ্চলের পানের ওপরই নির্ভর করে। পদ্মা নদীর ভাঙনে কয়েক শত পানচাষি তাদের প্রায় ৫০০ বিঘা জমির অন্তত ৫০০০ পিলি (পান বরজের সারি) পানের বরজ হারিয়েছেন।

মাসুদ করিম, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)

Location :

Bheramara
নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে পানের বরজ
নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে পানের বরজ |নয়া দিগন্ত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, আড়কান্দি ও রায়টা অঞ্চলের নদী তীরবর্তী প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে এই ভাঙন।

গত বছর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ভাঙনে নদীগর্ভে বিলুপ্ত হয়েছে প্রায় ৯৫০ বিঘা ফসলি জমি ও স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহৃত একমাত্র শ্মশানঘাট। শত শত পানচাষিদের প্রায় ৫০০০ পিলি (সারি বা বেড) পান বরজ ও ১০০ বিঘা কলাবাগানও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, আড়কান্দি ও রায়টা অঞ্চলে চার-পাঁচ দিন ধরে পদ্মা নদীতে বিশাল এলাকাজুড়ে খাড়া ভাঙন দেখা দিয়েছে।

নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র কৃষক গিরি দাস বলেন, এ অঞ্চলে আমাদের প্রাচীন শ্মশানঘাট ছিল। সেটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ভূমিকা নেয়নি। ফলে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে।

পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম উদ্দিন বলেন, এখানে ভেড়ামারা উপজেলার সবচেয়ে বেশি পান চাষ করা হয়। দেশের পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পান বাজার মূলত এ অঞ্চলের পানের ওপরই নির্ভর করে। পদ্মা নদীর ভাঙনে কয়েক শত পানচাষি তাদের প্রায় ৫০০ বিঘা জমির অন্তত ৫০০০ পিলি (পান বরজের সারি) পানের বরজ হারিয়েছেন।

কৃষক আমিরুল বলেন, গত বছর আমার ভাই আরজেত ও ভাতিজারা মিলে সাত-আট বিঘা জমিতে পান চাষ করেছিল, তা নদীতে ভেঙে গেছে। আমাদের ৮০০ পিলি বরজ ছিল। এছাড়াও রায়টার আজিজুল, জালাল, বুলু, নাসিম, সজিব, ইব্রাহিম, রজব, শহীদ, হ্যাপি, কাসেম, মান্নাসহ সবাই ৫০-১০০ পিলি পানের বরজ হারিয়েছে।

পানচাষি সুমন হোসেন বলেন, দুই বছর আগে এই অঞ্চলের হাজার বিঘা পান বরজ আগুনে পুড়েছিল। এখন আবার পদ্মা নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। এই অঞ্চলের মানুষ কৃষি আবাদের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ন্যূনতম ব্যবস্থা নেয়নি। কিছুটা ব্যবস্থা নিলে কৃষকরা এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ‘ভাঙন দু্ই মাস আগেই শুরু হয়েছে, পানি বৃদ্ধিতে এই কয়েক দিনে ভাঙনটা বেশি হচ্ছে। এখানকার ভাঙনের চাহিদা দিয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। সেটা পাশ হয়ে বাজেট না আসা পর্যন্ত কিছুই করতে পারব না।’

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: আমিরুল আরাফাত বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জোর তাগিদ দিয়েছি। আমি নিজেও আজ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম।’