চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২, বুকে ঝুলল ‘আমি টাউট’ সাইনবোর্ড

আইনজীবী না হয়েও প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বর থেকে দুই প্রতারককে আটক করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

Location :

Chuadanga
চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২, বুকে ঝুলল ‘আমি টাউট’ সাইনবোর্ড
চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২, বুকে ঝুলল ‘আমি টাউট’ সাইনবোর্ড |নয়া দিগন্ত

আইনজীবী না হয়েও প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বর থেকে দুই প্রতারককে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আটককৃতরা হলেন—কিশোরগঞ্জ জেলার সোনাপুর গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে ভুয়া আইনজীবী আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদ এবং তার সহযোগী দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের মরহুম ফইজুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মুকবুল হোসেন। আটকের পর সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীদের সচেতন করতে ভুয়া আইনজীবী সাগর আহমেদের বুকে ‘আমি টাউট’ লেখা একটি কাগজ ঝুলিয়ে দেয় আইনজীবী সমিতি। ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন এই দৃশ্য দেখতে আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায় এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সাগর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেট পরিচয় দিয়ে রায় ও জামিন পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে দামুড়হুদার কলাবাড়ি গ্রামের জামাত আলীর কাছ থেকে রায় পাইয়ে দেয়ার নামে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় বিষয়টি উন্মোচিত হয়। ভুক্তভোগী আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ করলে সমিতি সাগরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে তিনি আইনজীবী হিসেবে কোনো বৈধ সনদ বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

এছাড়া অন্যান্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে দামুড়হুদার মিজানুর রহমান জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং আলমডাঙ্গার বিপ্লব আলী ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এই প্রতারকের হাতে খুইয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু জানান, আটক সাগর আহমেদের আইনবিষয়ক কোনো বৈধ সনদ নেই। সে নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। আদালত চত্বরকে টাউট ও দালালমুক্ত রাখতে এবং জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, আইনজীবী সমিতির সদস্যরা দুজনকে থানায় হস্তান্তর করেছেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।