জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, ‘জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার জীবন ও রক্তদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক অভিশপ্ত ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। অসংখ্য মানুষ এই মুক্তির আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করেছে।’
বুধবার বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে সাতকানিয়ার কেরানিহাটে মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা।
তিনি আরো বলেন, সেসব নির্যাতিত, নিপীড়িত, অকুতোভয় মানুষকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। সেই বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের সেই অধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে এবং সেই সুযোগে পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের বৃথা স্বপ্ন দেখছে।‘
জামায়াত নেতা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজকে তারই আগাম মহড়া দেখাচ্ছে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মুখেও এদেশের মানুষ নতিস্বীকার করেনি। সুতরাং যারা দ্বিতীয় ফ্যাসিবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই স্বপ্নকে জুলাইজনতা দুঃস্বপ্নে পরিণত করবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনগণ আবারো রাজপথে নেমে আসবে। গণভোটের রায় মেনে না নিলে গণরোষের জন্য প্রস্তুত থাকুন। জুলাই নিয়ে বিভাজন তৈরি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক বড় অশনিসংকেত। গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নই বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা নেছার উদ্দীন, এলডিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া শিমুল, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাছের, এনসিপি নেতা সিফাত হোসেন, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জায়েদ হোসেন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, আ.ক.ম. ফরিদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল উদ্দীন, সাঙ্গু থানা আমীর মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, সাতকানিয়া পৌরসভার আমীর অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দিন আজাদ, উপজেলা সেক্রেটারি তারেক হোসাইন, কেরানীহাট সেক্রেটারি আবদুল মালেক, পৌরসভা সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, রক্তাক্ত জুলাই আমাদেরকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ দিয়েছে। আর সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা পুনরায় লুটপাটের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। তারা পুনরায় দুর্নীতির মহোৎসব করতে চায়। তারা পুনরায় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকেই হাঁটতে চায়। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, এই বিপজ্জনক পথে হাঁটবেন না। বরং অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। বাংলাদেশকে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পথে পরিচালনা করুন।


