বেতাগীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শ্রেণির কার্যক্রম

বরগুনার বেতাগীর তালগাছিয়া দেশান্তরকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি চরম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শ্রেণিকক্ষের ছাদে লোহার রডে মরিচা ধরে ধসে পড়েছে পলেস্তারা।

বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Betagi
বেতাগী উপজেলার তালগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শ্রেণির কার্যক্রম
বেতাগী উপজেলার তালগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শ্রেণির কার্যক্রম |নয়া দিগন্ত

বরগুনার বেতাগী উপজেলার তালগাছিয়া দেশান্তরকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি চরম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শ্রেণিকক্ষের ছাদে লোহার রডে মরিচা ধরে ধসে পড়েছে পলেস্তারা। যেকোনো মুহূর্তে ভবন ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠটিকে রক্ষায় বরগুনা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সাহেবের শুভ দৃষ্টি ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায় এক ভীতিজনক পরিবেশ। মাথার ওপরের ছাদের লোহার রডগুলোতে মরিচা ধরে পলেস্তারা ধসে পড়েছে। লোহার লোড-বেয়ারিং বিমগুলোর বহু জায়গায় ধসে পড়ে অনাবৃত হয়ে গেছে ভেতরের রড।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা আক্তার জানায়, ক্লাসে পাঠদান চলাকালেও মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে ইট-বালুর ছোট ছোট টুকরো খসে পড়ে।

সহকারী শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়েই চরম আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।’

বিদ্যালয়ের সামনে বেশ কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাদিন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়—কখন যেন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে! প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তো আর সন্তানদের স্কুলে পাঠানো যায় না।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লীলা রানী মন্ডল বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি সংস্কার করা প্রয়োজন।’

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার উপজেলা সংবাদদাতা মো: কামাল হোসেন খান বলেন, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন একাডেমিক ভবন এখন সময়ের দাবি। আমরা বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ মো: নুরুল ইসলাম মনির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি যেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত একটি নতুন ভবন বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’