পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, কুষ্টিয়া জেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতিকল্পে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত ও কঠোর করা হবে। কোনো পুলিশের মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততা এবং মাদকসেবনের প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি মাদক নির্মূলের ব্যাপারে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি; এর থেকে সমাজকে মুক্ত এবং সহনীয় পর্যায়ে আনতে সকলের সহযোগিতা জরুরি।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, বালুমহাল ও নদীকেন্দ্রিক সন্ত্রাসীদের তৎপরতা রোধে কুষ্টিয়া পুলিশকে আরো বেগবান ও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। যেকোনো মূল্যে এই অঞ্চলকে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে।
তিনি খোকসার সন্ত্রাসীদের তৎপরতা রুখে দিতে পুলিশকে আরও বেশি দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান।
কুষ্টিয়ার সাংবাদিকেরা মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা, চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধি, নদীকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী গ্রুপের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শহর এবং শহরতলিকে যানজটমুক্ত রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিআইজি খুলনাকে অবহিত করেন।
সাংবাদিকদের এসব দাবির প্রেক্ষিতে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর পুলিশ পূর্ণ মাত্রায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কোনো জড়তা নেই, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই। কোনো পুলিশ সদস্যের অবহেলা বা অসহযোগিতামূলক আচরণে জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হলে তাকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি যেসব পুলিশ সদস্য সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তিকে সমুজ্জ্বল করবে তাদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে।
তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জনগণকে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। তেমনিভাবে পুলিশ সদস্যকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিক হতে হবে। ডিআইজি আরও বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়ে পুলিশ কঠোর। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ রুখে দিতে হবে। মূলধারার সাংবাদিকেরা প্রকৃত তথ্য দিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের চিত্র পরিবর্তন করতে পারেন।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার খুলনা রেঞ্জের জেলাগুলোতে ৩০ হাজার বৃক্ষের চারা রোপণ করা হবে। বৃক্ষরোপণের সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আনিসুজ্জামান ডাবলু, আবু মনি জুবায়েদ রিপন, আব্দুর রাজ্জাক, তৌহিদী হাসান, শরীফ বিশ্বাস, সাজ্জাদ হোসেন, সনি আজিম, সোহাগ মাহমুদ, জহুরুল ইসলাম, শাহিন, রাজু আহমেদ, রুহুল আমিন বাবু, নুরুন্নবী বাবু, আনিস মণ্ডল প্রমুখ। এর আগে তিনি প্রথমবারের মতো কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে পুলিশের একটি চৌকস দল। তিনি পুলিশের মাসিক কল্যাণ মিটিংয়ে অংশ নেন। পরে পুলিশ লাইন চত্বরে তিনি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান পরে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান, বিজিবি এবং সরকারের সকল গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন বলে জানা যায়।


