সাভারে চাঁদা না দেয়ায় আলমগীর (৩৫) নামে এক কাভার্ডভ্যান চালকের মাথা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) দুপুর ৩টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের ভরসা সুপার মার্কেট সংলগ্ন বিরুলিয়া রোডে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কাভার্ড ভ্যানচালক তার কাভার্ডভ্যানটি সড়কে বাঁকা করে রাখলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
চালক আলমগীর হোসেন নোয়াখালী জেলার চর জব্বার থানার পশ্চিম চর জব্বার গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। ঘটনার পর চালক আলমগীর স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কাভার্ড ভ্যানচালক আলমগীর অভিযোগ করেন, তিনি কাভার্ড ভ্যান নিয়ে ভরসা মার্কেটের সামনে দিয়ে বিরুলিয়া যাচ্ছিলেন। এ সময় সাভার পৌরসভার যানবাহনের টোলের রশিদ দিয়ে কয়েকজন তার কাছে ১০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে চাঁদাবাজরা ছাতা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথার উপরের অংশ ফেটে যায়।
এ সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না এসে তাকে বলে, তুমি কাভার্ড ভ্যান এক পাশে সাইট করে রেখে চিকিৎসা নেয়ার পর থানায় যাও। পরে পুলিশ না আসায় চালক সড়কটির মাঝখানে গাড়ি রেখে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদ করেন। সাধারণ জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে প্রায় এক ঘণ্টা পর কাভার্ড ভ্যান নিয়ে তিনি চলে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটিতে চাঁদাবাজদের কারণে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। ছোট গাড়ি, বড় গাড়ি সব গাড়িতেই তারা চাঁদাবাজি করছেন। অবিলম্বে চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক পেয়ারা ব্যবসায়ী বলেন, আমার কাছ থেকেও ৫০ টাকা চাঁদা নিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাভার পৌর নারী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আইরিন জানান, চাঁদা তোলা যাবে না, চাঁদা দেয়াও যাবে না। আমরা দলের হয়ে কাজ করি, যেন চাঁদামুক্ত দেশ হয়।
তিনি আরো জানান, যারা চাঁদা তোলে, তারা সামনে আসে না। আর যারা চাঁদা তোলে তারা ছোট ছোট পোলাপাইন।
চাঁদার রশিদে লেখা মো: আলমগীর হোসেন মোল্লাকে চাঁদা নেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে তিনি বিরুলিয়া রোডে চাঁদা নেয়ার কথা অস্বীকার করে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী থেকে ব্যাংক টাউন পর্যন্ত দুই পাশ থেকে চাঁদা নেই। কিন্তু সংযোগ সড়ক বিরুলিয়া রোডে আমি কোনো চাঁদা নেইনি।
সাভার মডেল থানার (ওসি) সাইফুল আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি ঢাকায় এসপি স্যারের অফিসে মিটিংয়ে ছিলাম। এ ধরনের খবর পেয়ে ওসিকে (তদন্ত) আমি ফোন দিয়েছি। পরে আর খবর নিতে পারিনি।


