উজিরপুরে ধামুরা–সানুহার সড়কের বেহাল দশা

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন সড়কটি অবহেলায় পড়ে থেকে আরো নষ্ট হয়েছে।

বিএম রবিউল ইসলাম, উজিরপুর (বরিশাল)

Location :

Wazirpur
সড়কের বেহাল দশা
সড়কের বেহাল দশা |নয়া দিগন্ত

বরিশালের উজিরপুরে ধামুরা–সানুহার সড়কের প্রায় আট কিলোমিটার অংশ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও পিচ উঠে বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদাপানিতে তলিয়ে গেছে পুরো সড়ক। এটি এখন পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও তদারকির অভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন বেহাল দশা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ধামুরা থেকে সানুহার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝাই কঠিন। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, বাস এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উপজেলা প্রকৌশল দফতর সূত্রে জানা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ ২৪ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে দু’টি প্যাকেজের আওতায় ১৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় ইফতি ইটিসিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে এবং নির্ধারিত সময়ে কাজই শেষ করতে পারেনি।

স্থানীয়দের আরো দাবি, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মহিউদ্দীন মহারাজ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়ার পর প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন সড়কটি অবহেলায় পড়ে থেকে আরো নষ্ট হয়েছে।

প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। পাঁচ ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদর, হাসপাতাল, থানা, ব্যাংক, বাজার ও সরকারি দফতরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এটি। এছাড়া স্কুল-কলেজ, নূরানি ও হাফেজি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ইজিবাইক চালক রহিম বেপারী বলেন, ‘প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে বের হলেই ভয় লাগে। গর্ত এড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, আয়ও কমে গেছে।’

লোকাল বাসচালক লোকমান হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে বাস চালানো এখন খুবই কষ্টকর। যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন, আবার গাড়িও বারবার বিকল হচ্ছে।’

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন বলে, ‘বৃষ্টি হলে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় কাদা আর পানির কারণে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।’

স্থানীয় পথচারী সামিন খান বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রতিদিন মানুষ কষ্ট পেলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’

স্থানীয় শিক্ষক বদরুজ্জামান বলেন, ‘রাস্তার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত টেকসই সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, ‘২৪ কিলোমিটার সড়কটি তিনটি ভাগে টেন্ডার দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আট কিলোমিটার অংশে কাজ চলমান রয়েছে। বাকি ১৬ কিলোমিটার অংশের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি ইফতি ইটিসিএল। তাই নতুন করে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, ‘সড়কের বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

ইফতি ইটিসিএল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মহিউদ্দীন মহারাজ বিদেশে অবস্থান করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের কাজ বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে কেন? নিম্নমানের কাজ, সময়ক্ষেপণ এবং ঠিকাদারের ব্যর্থতার দায় কার—সে বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।