রংপুরে লাইনচ্যুত ট্রেন, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

‘রেলওয়ের লাইন সংস্কার কাজ চলমান। এই লাইনটা কেন সংস্কার হচ্ছে না, সেটা এই মুহূর্তে আমি বলতে পারব না। তবে তদন্তে এই বিষয়টিও থাকবে। ড্রাইভারের গাফিলতি নাকি লাইনের সমস্যা নাকি অন্য কিছু, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটা পরিষ্কার করা হবে।‘

রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন লালমনিরহাট বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ধীমান ভৌমিক
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন লালমনিরহাট বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ধীমান ভৌমিক |নয়া দিগন্ত

রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের তিন নম্বর লাইনে বুড়িমারী লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রেলওয়ে স্টেশনে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকিতে থাকা লালমনিরহাট বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ধীমান ভৌমিক বলেন, ‘দুপুর ১টায় আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। দুপুর দেড়টার মধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করি। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করা হয়। ইঞ্জিনটি উদ্ধারে বর্তমানে কাজ চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় পাঁচ সদদ্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এরপর বোঝা যাবে ঘটনার প্রকৃত কারণ কী।’

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সংস্কার না করা হলেও ওই লাইনে ট্রেন চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধীমান ভৌমিক বলেন, ‘রেলওয়ের লাইন সংস্কার কাজ চলমান। এই লাইনটা কেন সংস্কার হচ্ছে না, সেটা এই মুহূর্তে আমি বলতে পারব না। তবে তদন্তে এই বিষয়টিও থাকবে। ড্রাইভারের গাফিলতি নাকি লাইনের সমস্যা নাকি অন্য কিছু, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটা পরিষ্কার করা হবে।‘

এর আগে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী ৪৬১ লোকাল ট্রেনটি রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের তিন নম্বর ক্রসিং পয়েন্টে ইঞ্জিনসহ সামনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ড্রাইভার তড়িৎ গতিতে ব্রেক করায় এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তবে লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের বাকি বগিগুলো মূল লাইনে আটকা পড়ে যায়। এতে রংপুরের সাথে কাউনিয়া, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, বামনডাঙ্গা, বগুড়া রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের সাথে সারাদেশে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। স্টেশনে আটকা পড়ে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস।

এ ঘটনায় রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে আন্তঃনগর দোলনচাঁপা, রামসাগর, বুড়িমারী কমিউটার, রমনা লোকাল, লালমনিরহাট কমিউটারসহ বিভিন্ন ট্রেন।

এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইঞ্জিন ও লাইনচ্যুত বগিটি রেখে বাকি ছয়টি বগি আরেকটি ইঞ্জিন দিয়ে সরিয়ে স্টেশনের এক নম্বর লাইনে প্লেস করা হয়। ফলে স্টেশনের এক নম্বর ও দুই নম্বর লাইন ক্লিয়ার হয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় রিলিফ ট্রেন।