মিরসরাইয়ে এসএসসির ফল প্রকাশের দিনেও মিষ্টির বেচাকেনায় ভাটা

পাবলিক পরীক্ষার ফল বের হলে মিষ্টির দোকানে একটু বাড়তি চাহিদা থাকে। কিন্তু এবার এসএসসির ফল প্রকাশের দিনেও মিরসরাইয়ে মিষ্টির দোকানে বাড়তি কোনো বিক্রি হয়নি।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
মিষ্টির বেচাকেনায় ভাটা
মিষ্টির বেচাকেনায় ভাটা |নয়া দিগন্ত

সারা বছর মিষ্টির চাহিদা থাকলেও বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ দিনকে ঘিরে এর বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন মিষ্টির দোকানগুলোতে থাকে বাড়তি ব্যস্ততা। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বজনদের মিষ্টি কিনতে দোকানে ভিড় করতে দেখা যায়। তবে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবার সেই চিরচেনা দৃশ্য একেবারে নগন্য।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেও মিরসরাইয়ে মিষ্টির বেচাকেনায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। অন্য বছরের তুলনায় এবার মিষ্টির বিক্রি ছিল অনেক কম। ফলে প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় হতাশ মিষ্টি ব্যবসায়ীরা।

মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এসএসসিতে পরীক্ষার্থী ছিল চার হাজার ৯৫১ জন। পাশ করেছে ৩০৩৩ জন। পাশের হার ৬১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৭ জন শিক্ষার্থী। দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১,০৫৫ জন পরীক্ষার্থী। পাশ করেছে ৭৮৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮ জন। পাশের হার ৭৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা দিয়েছে ৮৯ জন। পাশ করেছে ৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। পাশের হার ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি মিষ্টি বিক্রি হয়। ফল প্রকাশের আগের দিন থেকেই বাড়তি মিষ্টি তৈরি করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এবার ফল প্রকাশের দিনও দোকানগুলোতে ক্রেতাদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি।

মিরসরাইয়ের মিষ্টি ব্যবসায়ী আবু জাফর বলেন, ‘আমি প্রায় ২০ বছর ধরে মিষ্টির ব্যবসা করছি। এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগের দিন থেকেই বেশি পরিমাণ মিষ্টি তৈরি করে রাখতাম। ফল প্রকাশের পর বিক্রি বেড়ে যাবে এমন প্রত্যাশা থাকত। কিন্তু এবার ফলকে কেন্দ্র করে বাড়তি কোনো বিক্রি হয়নি।’

আবুতোরাব বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, ‘বিশেষ দিনগুলোকে সামনে রেখে মিষ্টি প্রস্তুতকারীদের আগাম প্রস্তুতি থাকে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে চারগুণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরি করে রাখা হয়। কিন্তু এবার চাহিদা কম থাকায় প্রস্তুত করা মিষ্টি বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

মিরসরাইয়ের মিষ্টি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে এসএসসির ফল প্রকাশের দিন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্বজনেরাও মিষ্টি কিনতে আসতেন। সকাল থেকে দোকানে বেশ ভিড় থাকত। এবার সেই তুলনায় ক্রেতা অনেক কম। ফলে বাড়তি মিষ্টি তৈরি করেও আশানুরূপ বিক্রি করতে পারিনি।’

বারইয়ারহাট বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী মো: কামাল হোসেন বলেন, ‘ফল প্রকাশের দিন ভালো বিক্রির আশায় এবারও আগেভাগে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরি করেছিলাম। কিন্তু দিন শেষে দেখা গেল স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকেই হয়তো আগের মতো মিষ্টি কিনছেন না।’