পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা
১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা সদরে অবস্থিত কে এম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এর প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টায় পাথরঘাটা গোলচত্বরে মানববন্ধন করেছেন অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে বরগুনার জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন।
মির্জা শহিদুল ইসলাম খাঁননের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী মেহেদী শিকদার, শফিকুল ইসলাম খোকন, মহিউদ্দিন সিকদার, বদিউজ্জামান শাহেদ, জিয়াউর রহমান ফাহিম, পাথরঘাটা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সালেহ জসিম, পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নজমুল হক সেলিম ও ইবনে সাঈদ বেলালসহ অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের অবনতি শুরু হয়। বর্তমানে শিক্ষার মান তলানিতে নেমে এসেছে। এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, যে বিদ্যালয় থেকে বহু কৃতী মানুষ তৈরি হয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শিক্ষার পরিবেশ অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রশাসনিক অবহেলা ও অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে বিদ্যালয়টির এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অপসারণ করে যোগ্য ও স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলোতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারসহ উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।


