দর্শনায় প্রসূতির মৃত্যু : অপচিকিৎসার অভিযোগ, তদন্তে সিভিল সার্জন

অপারেশন শুরু হওয়ার আগেই রোগীর খিচুনি ওঠে। রোগী অত্যন্ত ভয় পেয়েছিলেন। আতঙ্কজনিত কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Location :

Damurhuda
মুক্তি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা
মুক্তি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা রেলগেট এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতিকালে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অপচিকিৎসার কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, অপারেশন শুরু হওয়ার আগেই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।

নিহত প্রসূতির নাম রেহানা খাতুন (২৫)। তিনি দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের মেয়ে এবং কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী।

স্বজনদের দাবি, রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকে রেহানা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হলে বেলা ১১টার দিকে তাকে দর্শনা রেলগেট এলাকার মুক্তি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

রেহানার খালাতো ভাই মো: জাহিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, অপারেশনের আগে অজ্ঞান করার উদ্দেশ্যে কয়েকটি ইনজেকশন দেয়ার পরপরই রেহানার শরীরে তীব্র খিচুনি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষই একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা মনে করি ভুল চিকিৎসা কিংবা ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্লিনিকের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। মুক্তি ক্লিনিকের এনেস্থিসিওলজিস্ট মো: মমিন হোসেন বলেন, অপারেশন শুরু হওয়ার আগেই রোগীর খিচুনি ওঠে। রোগী অত্যন্ত ভয় পেয়েছিলেন। আতঙ্কজনিত কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা: সিমু বলেন, রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখনও অস্ত্রোপচার শুরু হয়নি, এমনকি রোগীর শরীরে কোনো সার্জিক্যাল প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়নি। খিচুনি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ক্লিনিকে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান করেন।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথেও কথা বলা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে স্বজনদের গুরুতর অপচিকিৎসার অভিযোগ, অন্যদিকে ক্লিনিকের দাবি, অপারেশন শুরুর আগেই রোগী জটিল অবস্থায় পড়েছিলেন। ফলে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।