এক নিলামে এনটিসির রেকর্ড ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চা বিক্রি

নিলামের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—প্রতিষ্ঠানটির ১২টি বাগানের প্রতিটির চায়ের গড় বিক্রয়মূল্যই প্রতি কেজি ২৮০ টাকার ওপরে ছিল। একক কোনো নিলামে একটি কোম্পানির সবগুলো বাগানের চা ধারাবাহিকভাবে এত উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ার ঘটনা বিরল।

Location :

Maulvibazar
চা বাগান
চা বাগান |নয়া দিগন্ত

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
বাংলাদেশের চা শিল্পে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। চট্টগ্রাম চা নিলামে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এক নিলামেই বিপুল পরিমাণ চা রেকর্ডমূল্যে বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে দেশের চা বাজারে এনটিসির উৎপাদিত চায়ের মান ও ক্রেতাদের আস্থার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে চা নিলামে এনটিসির মালিকানাধীন ১২টি চা-বাগানের মোট এক লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। এসব চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রতি কেজি ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা। সরকার নির্ধারিত ফ্লোর প্রাইস প্রতি কেজি ২৪৫ টাকার তুলনায় এ দাম প্রায় ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি।

এনটিসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নিলামের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—প্রতিষ্ঠানটির ১২টি বাগানের প্রতিটির চায়ের গড় বিক্রয়মূল্যই প্রতি কেজি ২৮০ টাকার ওপরে ছিল। একক কোনো নিলামে একটি কোম্পানির সবগুলো বাগানের চা ধারাবাহিকভাবে এত উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ার ঘটনা বিরল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিলামের দিন বিক্রি হওয়া চা থেকে এনটিসির মোট আয় দাঁড়ায় চার কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা। একই সাথে চলতি বছর চা উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এনটিসির এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত কোম্পানির মোট চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগেই এ সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির সচিব এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘এ সাফল্যের পেছনে মাঠপর্যায়ে চায়ের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। চা শ্রমিকদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিবিড় মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চায়ের রং, সুবাস, ঘনত্ব ও স্বাদ উন্নত করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিলামে দেশের শীর্ষস্থানীয় চা ক্রেতারা এনটিসির উন্নতমানের চা কিনতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, সুনির্দিষ্ট ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত প্রয়াসই এ সাফল্যের মূল কারণ।’

এদিকে কমলগঞ্জে ন্যাশনাল টি কোম্পানির আওতাধীন রয়েছে মাধবপুর, পাত্রখলা, মদনমোহনপুর ও কুরমা চা-বাগান। সংশ্লিষ্ট বাগানের কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতারা জানায়, চায়ের গুণগত মান উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

পাত্রখলা চা-বাগানের শ্রমিক নেতা রিয়াজ আহমদ বলেন, ‘চা উৎপাদন ও গুণগত মান ধরে রাখতে শ্রমিকরা নিয়মিতভাবে নির্ধারিত মান অনুযায়ী চা পাতা সংগ্রহে কাজ করছেন। নিলামে এনটিসির চায়ের এমন সাফল্যে শ্রমিকদের মধ্যেও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।’

এনটিসির সচিব এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এই অর্জন গুণগত উৎকর্ষ ও কঠোর পরিশ্রমের ফসল। ভবিষ্যতেও বিশ্বমানের চা উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রেখে দেশের চা শিল্পকে বিশ্বদরবারে আরো সমৃদ্ধ করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগত মান ধরে রাখতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশী চায়ের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে।

এনটিসির এবারের সাফল্য দেশের চা শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলেও আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।