হাজিরা আছে, সময় নেই!

৩৪ কর্মদিবসেই ‘লেট’ ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মোছা: সুলতানা পারভীনের নিয়মিত দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

Location :

Dimla
ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মোছা: সুলতানা পারভীন।
ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মোছা: সুলতানা পারভীন। |নয়া দিগন্ত

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মোছা: সুলতানা পারভীনের নিয়মিত দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া উপস্থিতি-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ কর্মদিবসের প্রতিটিতেই তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হলেও কোনো দিনই তার হাজিরা স্বাভাবিক হিসেবে চিহ্নিত হয়নি; প্রতিদিনই ছিল ‘লেট’।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১ জুলাই সকাল ৯টা ২২ মিনিটে, ২ জুলাই ৯টা ১৪, ৪ জুলাই ৯টা ১০, ৫ জুলাই ৯টা ১৭, ৬ জুলাই ৯টা ২১, ৭ জুলাই ৯টা ৩৪, ৮ জুলাই ৯টা ৩৩ এবং ৯ জুলাই সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে কর্মস্থলে উপস্থিত হন তিনি। পরবর্তী দিনগুলোতেও বিভিন্ন সময়ে তার ‘লেট’ হাজিরা পাওয়া যায়।

এর মধ্যে ১৯ জুলাই সকাল ৯টা ৫০ মিনিট, ২২ জুলাই ৯টা ৩৯, ২৩ জুলাই ৯টা ১৩, ২৫ জুলাই ৯টা ১২, ২৬ জুলাই ৯টা ১৫ এবং ২৭ জুলাই ৯টা ২০ মিনিটে উপস্থিত হন সুলতানা পারভীন। আবার ২৮ জুলাই সকাল ৮টা ৩১, ২৯ জুলাই ৮টা ৩৪, ৩০ জুলাই ৮টা ৪৭, ১ আগস্ট ৮টা ৪৮, ২ আগস্ট ৮টা ৪৬, ৩ আগস্ট ৯টা ১১, ৪ আগস্ট ৯টা ১৩, ৬ আগস্ট ৮টা ৪৭, ৮ আগস্ট ৯টা ৯, ৯ আগস্ট ৯টা ২২, ১০ আগস্ট ৯টা ১০ এবং ১১ আগস্ট সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে তার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রেও হাজিরার স্ট্যাটাস ‘লেট’ হিসেবে চিহ্নিত।

ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে সুলতানা পারভীনের দায়িত্বের মধ্যে রোগীর পরীক্ষার নমুনা গ্রহণ ও প্রস্তুতকরণে সহায়তা, ল্যাবের যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রস্তুত রাখা, ল্যাবের পরিচ্ছন্নতা ও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ল্যাব টেকনোলজিস্টকে দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করা অন্যতম। ফলে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলে ল্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রোগীসেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক কর্মচারী জানান, নিয়মিত ও যথাসময়ে অফিস করার জন্য সুলতানা পারভীনকে একাধিকবার তাগাদা দেয়া হয়েছে। তবে তাতেও তার সময়ানুবর্তিতায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সহকর্মী বলেন, ‘নিয়মিত অফিস করার ব্যাপারে তাকে বারবার তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। নিজের মতো করে অফিসে আসা-যাওয়া করেন।’

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো: আব্দুর রাজ্জাককে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে ডেকে যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জবাবদিহি করেন।

সিভিল সার্জন ডা: মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা দায়িত্বের অংশ। বিষয়টি যাচাই করে নিয়মিতভাবে সময়ানুবর্তিতার ব্যত্যয় পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে মোছা: সুলতানা পারভীন বলেন, ‘অফিস থেকে সময়মতো যেতে বলে। কিন্তু নারী মানুষ, বাড়ি থেকে যাতায়াত করি বোঝেন না? আর দেরি হবে না।’