নোয়াখালী জেলার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি, একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা সেক্রেটারী মাওলানা মো: বোরহান উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ চাটখিল, সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলা, সংঘর্ষ ও প্রাণঘাতী সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
একই সাথে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নোয়াখালীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে।
‘চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ইউনিয়নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাটখিল উপজেলার সাবেক সমন্বয়ক সামির হোসেন ও নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ১১ জন আহত হন, যা সমগ্র এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে রেখেছে।’
একইভাবে সোনাইমুড়ীতে বসতঘরে ঢুকে সালেহ আহমেদ নামে এক স’মিল শ্রমিককে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আবার গত ৬ আগস্ট চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে সরকারি দলের দুই গ্রুপের দখল। সেই দখলবাজিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি এবং হত্যাচেষ্টাও চালানো হয়।
অন্যদিকে, বেগমগঞ্জের গোপালপুরে গত তিনদিন ধরে জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও দলীয় কার্যালয়ে ধারাবাহিক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে রাজনৈতিক সহাবস্থান বিনষ্ট করা হচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বেগমগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নে যুবদল নেতা সোহাগ হোসেন সোহেল নিজেদের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ ও নিজের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও, রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে এই ঘটনায় জামায়াত-শিবিরকে জড়িয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বিবৃতি দেয়া হয়েছে।
জামায়াত-শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত উক্ত বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘কোনো প্রকার তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়াই ঢালাওভাবে অন্য দলের ওপর দোষ চাপানোর এই অপসংস্কৃতি সুস্থ রাজনীতি ও সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি। নিজেদের অপকর্ম করে অন্যকে দায়ী করা এবং দুষ্কৃতকারীদের আড়াল করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’
আমরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাই। একই সাথে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার এবং সরকারি দলকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।


