মেহেরপুরে নিষিদ্ধ পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার দায়ে দুই কিশোরকে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫) ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিম (১৪)। তাদের বাড়ি গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালে ২৬ জুন বিকেলে রেজোয়ান আল আবির তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে রেজোয়ান আল আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইলফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় ওই ফোন থেকে আবিরের বাবা মালয়েশিয়াপ্রবাসী আসাদুজ্জামানের কাছে ইমু নাম্বার থেকে হিন্দি ভাষায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেলে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় হত্যাকারী দুই কিশোর বন্ধু।
বিষয়টি দ্রুত আবিরের বাবা পরিবারকে মোবাইলফোনে জানায়। জানানো হয় পুলিশকেও। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে। পরে তারা আবিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। রাতেই মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ থেকে আবিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা খাতুন একইদিন রাতেই গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত নিহত আবিরের বন্ধু মুজাহিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর হামিমকে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
রায়ে আরো বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
মামলায় ১১ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন ও রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।


