সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প মানেই বরাদ্দের পুরো টাকা ব্যয় করার প্রবণতার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। কোথাও কোথাও প্রকল্পের শেষ সময়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়িয়ে বরাদ্দ শেষ করারও নজির রয়েছে।
এমন বাস্তবতায় বরিশালের উজিরপুর উপজেলার একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে কাজ শেষ করেও প্রায় ৬০ লাখ টাকা অব্যবহৃত রেখে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি অর্থ ব্যবহারে এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা ব্যতিক্রমী এবং ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গুঠিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশে প্রায় ৬০ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। পরে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করেও যে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব, উজিরপুরের এই প্রকল্প সেটিই দেখিয়েছে।
তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা নয়া দিগন্তকে বলেন, জনগণের করের টাকার প্রতিটি পয়সা দায়িত্বশীলভাবে ব্যয় করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর যে অর্থ অব্যবহৃত ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থ অন্য উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, খাল পুনঃখননের ফলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিকাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ায় এটি অন্য প্রকল্পের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।
সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কেবল কাজ শেষ করাই নয়, বরং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠলে জনসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে। উজিরপুরের এই উদ্যোগ সেই বার্তাই দিয়েছে।


